সরকারি ওয়েবসাইট নকল করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ভুয়া নিয়োগ
জাতীয় তথ্য বাতায়নের (পোর্টাল) ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এরভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করে একটি চক্র প্রতারণার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। রোববার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই এলএটিসি ওয়েবসাইটের মূল পোর্টাল ডেভেলপার এটুআইকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া বিটিসিএলকে পত্র লিখে ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে।
জানাগেছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন যে, কে বা কারা তাকে ফোন করে জানায় তিনিসহ আরও তিনজনের নামে ‘www.latcgovbd.com’ ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। পরে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখার সময় জানা যায় যে, ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এলএটিসি) ওয়েবসাইটের আদলে একটি নকল সাইট তৈরি করেছে প্রতারক চক্র। এলএটিসির প্রকৃত ওয়েবসাইট (www.latc.gov.bd) নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট (www.latcgovbd.com) সৃজন করে মো. রুহুল আমিনসহ আরও তিন কথিত ব্যক্তি মো. রায়হান রহমান, মো. আব্দুস সালাম ও মো. আরিফুল ইসলামের নামে চলতি বছরের ২১ জুন ভুয়া নিয়োগপত্র ইস্যু করে প্রতারক চক্র।
ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এলএটিসি থেকে মো. রায়হান রহমান, মো. আব্দুস সালাম ও মো. আরিফুল ইসলামের নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। বর্ণিত নিয়োগপত্রটি ভুয়া। ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি, স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করা একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।
উল্লেখ্য, এলএটিসি কার্যালয়ের ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. রুহুল আমিনকে গত ২১ জুন ৪৬২নং স্মারকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে এলএটিসিতে কর্মরত।
আপাতদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, ভুয়া ওয়েবসাইট সৃষ্টিকারীরা এলএটিসির আসল ওয়েবসাইট থেকে উক্ত স্মারক ও নিয়োগপত্র সংগ্রহ করে এর একাংশ স্ক্যান করে ব্যবহার করেছে। আরও প্রতীয়মান হয় যে, প্রতারক চক্র প্রকৃত নিয়োগপ্রাপ্ত মো. রুহুল আমিনসহ উপর্যুক্ত তিন ব্যক্তি (যদি নামও ভুয়া না হয়ে থাকে) থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছিল কিংবা করছে।
এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় কিংবা এর আওতাধীন দফতর/সংস্থায় চাকরি দেয়ার নামে কেউ যদি অর্থ দাবি করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ভুয়া নিয়োগে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকবার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।